Bengali Rhymes on Cuisine ( Fruits )

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমসত্ত্ব দুধে ফেলি তাহাতে কদলী দলি
সন্দেশ মাখিয়া দিয়া তাতে
হাপুশ হুপুশ শব্দ, চারিদিক নিস্তব্দ
পিঁপড়া কাঁদিয়া যায় পাতে।

ভারতচন্দ্র – অন্নদামঙ্গল

জ্যৈষ্ঠ মাসে পাকা আম এ দেশে বিস্তর।
সুধা ফেলে খেতে আশা করে পুরন্দ্রর;

ভারতচন্দ্র – রান্না ও আম সংরক্ষণ

আম্র দিয়া শৌল মাছে ঝোল চড়চড়ি।
আরি রান্ধে আদা রসে দিয়া ফুলবড়ি।।
আম আমসত্ত্ব আর আমসি আচার।
চালিতা তেঁতুল কুল আমড়া মান্দার।।

মালদার ফলের প্রাচুর্যের ওপর লেখা ছড়া হল-

সাপাটু কাঁঠাল আম।
লিচু কলা শশা জাম।।
করঞ্চা কামরাঙ্গা ফুটি।
তরমুজ খরমুজ জুটি।।
লেবু কাগজী পেয়ারা।
গন্ধরাজ লেবু পিয়ারা।।

আঙুলফুলি আম – ভবানীপ্রসাদ মজুমদার

‘ফজলি খেয়েই মজলি মিছে
নেহাত তোরা চ্যাংড়া,
আম খেলে খাস আমের সেরা
‘গোলাপখাস আর ‘ল্যাংড়া’।
‘বেগমপছন্দ’, আলফানসো’
শুনতে আরো চাস কি?
‘কিষণভোগ’, ‘বেগুনফুলি’
বা ‘সরিখাস’ খাস কি?
‘তোতাফুলি’, ‘পেয়রাফুলি’
‘হিমসাগর’ আর ‘মালদাই’
কতশত আম যে আছে
‘রানীপছন্দ’, ‘বোম্বাই’।
দাম শুনলেই ঘাম ছুটে যায়?
বলছি মজার ফন্দি,
হরেক রকম আমের ছবি
করবি ফ্রেমেই বন্দী।
তারপরে শোন, মিছেই কেন
দুঃখ মনে পুষবি?
আমের ছবি দেখবি এবং
বুড়ো আঙুল চুষবি!
পয়সা ছাড়াই পারবি খেতে
নানান স্বাদের আম যে,
অনেক ভেবেই দিলাম এটাই
‘আঙুলফুলি’ নাম যে।”